সন্তানদের প্রতি বাবা মায়ের করা এই 10 টি ভুল শেষে হয়ে ওঠে অনুশোচনার কারণ! জেনে নিন বিস্তারিত।

নিজস্ব প্রতিবেদন:-প্রতিনিয়ত যে হারে বেড়ে চলেছে শিশুদের প্রতি অবহেলার পরিমাণ তাতে আগামী দিনে আমাদের আগামী প্রজন্ম ভবিষ্যৎ খুব একটা সুনিশ্চিত হতে পারছে না ।এর জন্য অতি অবশ্যই বাড়ির অভিভাবকেরা দায়ী ।কারণ এমন কিছু আচরণ রয়েছে যেগুলো আপনার শিশুর সাথে আপনাদের করা একান্তই জরুরী । এই সমস্ত লক্ষণগু-লি ঘটনাগুলো পরবর্তী উপলব্ধি করতে পারে তাহলে কিন্তু হতাশায় ভুগতে থাকবে আপনার শিশু ।

আজকের এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনারা জেনে নিন কি কি কাজ করলে আপনার শিশু অনেক আনন্দিত থাকবে ছোটবেলা থেকে।শিশুকে আলিঙ্গন না করা ছোটবেলা থেকেই । যদি আপনি আপনার শিশুকে দূরে সরিয়ে রাখে অর্থাৎ কাজের ব্যস্ততার দোহাই দেখিয়ে যদি তাকে একান্ত নিরিবিলিতে দিন কাটাতে দেন তাহলে কিন্তু ভবিষ্যতে সে একা থাকতে পছন্দ করবে অর্থাৎ সমাজের মূল স্রোতে কিন্তু মিশে যেতে পারবে না ।

তাই যখনই সময় পাবেন আপনার ছোট্ট শিশুকে আলিঙ্গন করার চেষ্টা করুন এটা তার কাছে একটা চরম পাওয়া ।
অন্যের কথায় কান দেন তারা ।সমাজে বারো রকম মানুষের বারো রকম চাওয়া। আর তা যদি আপনার শিশুর উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় তাহলে আপনাকে তা প্রতিহত করতে হবে। কারণ সন্তান আপনার, যারা অযথা উপদেশ দিয়ে বেড়ান তাদের কথায় কান দেবেন না। যদি তাদের কথা শুনে শিশুকে বড় করতে চান তাহলে শিশু তার স্বকীয়তা হারাবে।

আনন্দের সময় শিশুদের সাথে থাকুন । যেমন বড়দিন জন্মদিন দুর্গাপুজো কালীপুজো ইত্যাদি যে সমস্ত আনন্দের দিন গুলো রয়েছে সেগুলি প্রতিটি শিশুই চায় তার মা-বাবা তার সাথে যেন সময় কাটায় ।তাই অবশেষে সমস্ত দিনগুলোতে শিশুদের সাথে সময় কাটানোর চেষ্টা করুন ।

শিশুদের যথেষ্ট আনন্দের ব্যবস্থা করেন না ।কোমলমতি শি’শুদের মন সবসময় আনন্দ খুঁজে বেড়ায়। তারা খেলতে চায়, হাসতে চায়, বেড়াতে যেতে চায়। দুঃখ ভারাক্রান্ত শৈশব নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশুরা আনন্দের মাঝে বেড়ে ওঠা শিশুদের চেয়ে ভবিষ্যতে অনেক পিছিয়ে থাকে। কারণ তার মানসিক বিকাশ পরিপূর্ণ হয় না তাদের। এজন্য তাদের আচার আচরণ এবং গতি প্রকৃতি স্বাভাবিক হয় না।

শিশুর চাওয়াকে গুরুত্ব দিন অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে এমনটা বলতে শোনা যায় যে এখন তোমার এটা করার বয়স হয়নি বড় হলে করবে ।এই কথাটা যেমন জরুরি কথা রয়েছে ঠিক তেমনি সেই যুক্তি আপনার শিশুকে বোঝানোর দরকার । পাশাপাশি যে সমস্ত ছোটখাটো বিষয় গুলি রয়েছে যেগুলো আপনার ছোট্ট সন্তান করতে চাইছে সেগুলিকে প্রশ্রয় দিন ।

শিশুদের প্রতি কঠোর আচরণ করেন। শিশুরা ফেরেশতা নয় যে ভুল করবে না। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে নিতেই একদিন সে পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে ওঠে। কিন্তু রূঢ় আচরণ কোনো শিশুই নিতে পারে না এবং তার কোমল মনে বিদ্বেষ সৃষ্টি হয়। তাই তাকে তিরস্কার না করে একটু কৌশলী আচরণ করে তার ভুল ধরিয়ে দিন।

শিশুর সৃজনশীলতা কে গুরুত্ব দিন এই কথার মানে এমনটা নয় যে আপনি যদি ছোটবেলা থেকেই তার সৃজনশীলতাকে গুরুত্ব দেন তাহলে সে বড় হয়ে শিল্পী কিংবা গায়ক হয়ে উঠতে পারেন ।কিন্তু ভবিষ্যতে একটা সুনিশ্চিত হতে পারে সে ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই ।

শিশুদের সাথে ছবি না তোলা। ছবি তোলা আর এমন কি! চাইলেই এখন ছবি তোলা যায়। ছোট্ট এই কাজটি শিশুর মানসিক পূর্ণতা তৈরিতে সাহায্য করে এবং বাবা মায়ের প্রতি তার ভালোবাসা আরো গভীর করে তোলে।

শিশুর প্রথম কথা লিখে রাখেন না । অনেকেই এমন কাজটা করে থাকে যে যারা তাদের শিশুর প্রথম বুলি সেটা কোনো একটি জায়গায় লিপিবদ্ধ করে রাখে। এটি অত্যন্ত স্মৃতিময় একটি ব্যাপার ।তাই এই কাজটি সম্ভব হলে করুন ।এমন কোন কঠিন কাজ নয় ।শি’শুদের প্রতি সজাগ দৃষ্টি না দেওয়া। শিশু থেকে বড় হয়ে ওঠার জন্য তাদের প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সান্নিধ্য খুবই প্রয়োজন।

তাই তাদের সাথে বাবা মায়ে যোগযোগ বাড়ানো জরুরি। যদি তা না করা হয় তাহলে তারা একাকীত্বে ভোগে এবং নিজের ক্ষুদ্র মন যা ভালো মনে করে তাই করতে শুরু করে। যেহেতু তারা জীবন সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানে না সেহেতু তারা এমন কিছু ভুল করে বসে যা তার ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button